স্বর্ণের দামে বড় পতন

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
স্বর্ণের দামে বড় পতন

ফাইল ছবি

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম দুই মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। একই সঙ্গে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বর্ণ এখন বিয়ার মার্কেটের ঝুঁকিতে রয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮০.৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দিনের শুরুতে দাম ২৬ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।

জুনে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৭৭.১০ ডলারে নেমেছে। মূলত ডলার এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলার-মূল্যের সোনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। এতে স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার সম্ভাবনা সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এতে স্বর্ণের বাজার আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ২০২৬ সালে নতুন নিম্নস্তরে নামার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও, উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এটি তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে পড়ে। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা ট্রেজারি বন্ডের মতো বেশি মুনাফা পাওয়া সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

এদিকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক বলেন, আপাতত স্বল্পমেয়াদি সুদের হার স্থিতিশীল রাখা উচিত। তবে শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকলে প্রয়োজন হলে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে বাজারের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেনডিচারস (পিসিই) তথ্যের দিকে, যা ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই তথ্য প্রকাশের পর ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যান্য মূল্যবান অন্যান্য ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩.৩৪ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯৩.১৬ ডলারে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৬৬ ডলারে নেমেছে।

পিএস

Link copied!