এফ-৩৫ হ্যাঙ্গারসহ ২১ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
এফ-৩৫ হ্যাঙ্গারসহ ২১ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এবার অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন বিমান ও নৌ ঘাঁটিগুলোতে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারসহ প্রায় ২১টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফলভাবে এই হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই খবর নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসির বরাতে ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানায়, এই অভিযানের অংশ হিসেবে মূলত ৪টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান 'কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার' আল-আজরাক ঘাঁটি এবং মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম 'প্রেস টিভি' জানিয়েছে, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আবারও হামলার শিকার হয়েছে এবং সেখানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করেছে, স্থানীয় সময় রাত ২টা ৩০ মিনিটে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর' লক্ষ্য করে একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়। বাহরাইন সরকারও দেশে ড্রোন হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজানোর কথা নিশ্চিত করেছে।

মূলত দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসী হামলার জবাবেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি আইআরজিসির। এর আগে হরমুজ প্রণালির ওপর টহলরত মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এই ঘটনা নিশ্চিত করে লেখেন, "ইরানিরা হরমুজ প্রণালির ওপর টহলরত আমাদের একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এতে থাকা দুই পাইলটই অলৌকিকভাবে অক্ষত ও নিরাপদ আছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই হামলার কড়া জবাব দিতে হবে।"

এর পরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে 'আত্মরক্ষামূলক ও আনুপাতিক' বিমান হামলা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা ২১টি মার্কিন ঘাঁটিতে এই বিশাল পাল্টা হামলা চালাল।

এই সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, "রণক্ষেত্রে বারবার পরাজিত হয়েও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সংকল্প পরীক্ষা করতে চাইছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হুমকির উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।"

তিনি আরও যোগ করেন, "নিরাপদে থাকতে চাইলে অবিলম্বে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান। পারস্য উপসাগরের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, অতীতে এখানে অনুপ্রবেশকারী বহিরাগতদের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হয়েছিল।"

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি সামরিক সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এম

Link copied!