ভারতের নয়াদিল্লিতে আজ শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রেশার গ্রুপখ্যাত তরুণদের দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দেশের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার সিজেপি সমর্থক আটক হয়েছে। তারপরও বিক্ষোভে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছেন যুব আন্দোলনটির নেতারা। বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দিল্লির পুলিশ ও প্রশাসন। একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৫০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছে দিল্লি পুলিশ। এছাড়া, সারাদেশ থেকে দিল্লিগামী একাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ককরোচ নেতৃস্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হলেও বিক্ষোভ পূর্বানির্ধারিত সময়েই হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, ভোটার তালিকার বিতর্কিত সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত।
দেশজুড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় নির্বাচন কর্মকর্তা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে যুব আন্দোলনটি, বিরোধী দলগুলো এবং তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে গতকাল শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন, আমি শনিবার দিল্লিতে পৌঁছাব এবং যন্তরমন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাব।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের তরুণরা এখন আর আপনাকে ভয় পায় না।’
আন্দোলনের সঙ্গে ইতোমধ্যে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠী, অভিনেতা প্রকাশ রাজের মতো পরিচিত মুখ যোগ দিয়েছে। এতে আন্দোলন ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক বার্তায় রাঠী নিশ্চিত করেছেন, আজ দিল্লির বিক্ষোভে তিনি উপস্থিত থাকবেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে হওয়া বিক্ষোভেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবর বলছে, ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন জেন-জিদের মধ্যে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
২০২৪ সালে ভারতে ভোটার ছিল অন্তত ৯৬ কোটি মানুষ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রখ্যাত এই দেশটিতে গত বছর থেকে ভোটার সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের নির্বাচনের আগে ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হয়। পরে তা অন্যান্য রাজ্যে সম্প্রসারিত হয়। বহু মানুষ এর আওতায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। পরে জানা যায়, সংশোধনের অনেক সিদ্ধান্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার একাই নিতেন। এ বিষয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের কথা আমলে নিতেন না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্যটি উঠে আসার পরপরই তোলপাড় শুরু হয় ভারতে। বিরোধী দলসহ সিজেপি নেমে আসে রাস্তায়।
বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, প্রায় দুই দশক পর ভোটার তালিকার এই সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যাতে বিজেপি সুবিধা পায়।
বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি: পুলিশ
এদিকে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুলিশ জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সিজেপি অনুমতি নেয়নি। বিক্ষোভকারীরা নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রয়টার্সের হাতে আসা একটি সরকারি নথি অনুযায়ী, রাজধানীতে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমনকি ভারত-শাসিত কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকেও পুলিশ সদস্যদের দিল্লিতে আনা হচ্ছে।
সিজেপি জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিভিন্ন রাজ্যে তাদের হাজার হাজার সমর্থককে আটক করছে পুলিশ। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবি কিংবা এক্সে প্রকাশিত ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিবিরোধী এক ডজনেরও বেশি দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল কংগ্রেস। বিরোধী জোট শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।
ট্রেন বাতিল, মেট্রোর কিছু প্রবেশপথ বন্ধ
আজ শনিবার নয়াদিল্লিগামী কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য ‘বিশৃঙ্খল জনতা’র আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশ মেট্রো ট্রেনের সংখ্যাও কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে। কিছু মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও বন্ধ রাখা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ গতকাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, শনিবার ভোর থেকে নয়াদিল্লিতে যেসব মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের পৌঁছানোর কথা ছিল, সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। এর মধ্যে শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসও রয়েছে।
এম