ফাইল ছবি
ঢাকা: তেলের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন। তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সুদের হার নিয়ে চাপের কারণে বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম।
মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৫১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৮.৭৬ ডলারে দাঁড়ায়। ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৫৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৭.২০ ডলারে নেমে আসে।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ বব হ্যাবারকর্ন বলেন, “তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। তাই আমার মনে হয়, আজ সকালের মূল বিষয় হলো তেলের দাম বৃদ্ধি ও উচ্চমূল্য মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।”
মঙ্গলবার তেলের দাম বেড়েছে। সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হুথিদের হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলার খবরের কারণে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।
জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৯৪.৮২ ডলারের রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে স্বর্ণের দাম এখনো প্রায় ২৬.৪ শতাংশ কম রয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর সময়ের দামের তুলনায়ও এটি প্রায় ২২ শতাংশ নিচে রয়েছে। সে সময় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরদার করেছিল।
ফেডারেল রিজার্ভ সেপ্টেম্বরে সুদের হার ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছিল, যা ছিল চলতি বছরে তাদের প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি।
ফেড কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যে নীতিগত কঠোরতা আরও বাড়ানোর ব্যাপারে তেমন তাড়াহুড়ো না থাকার ইঙ্গিত পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২৭-২৮ অক্টোবরের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা কমেছে। তবে সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৯২ শতাংশ বলে মনে করছেন লেনদেনকারীরা।
স্বর্ণকে ঐতিহ্যগতভাবে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
বিনিয়োগকারীরা আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের দিকেও নজর রাখছেন। এটি ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যস্ফীতি পরিমাপক। মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে কি না এবং তা সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা পেতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, জাপানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা বলেছেন, দেশটির অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার “বেশ কাছাকাছি” রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যে আরও সুদের হার বাড়ানোর সুযোগ থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম প্রতি আউন্স ৫৭.০৮ ডলারে অপরিবর্তিত ছিল। প্লাটিনামের দাম ০.২৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৫.৪৮ ডলারে নেমে আসে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৫৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১০২.৪৫ ডলারে দাঁড়ায়।
পিএস