মন্ত্রিসভায় উঠছে আজ

সচিবালয় যাচ্ছে আগারগাঁও, পরিবর্তন হচ্ছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৭:৪১ এএম
সচিবালয় যাচ্ছে আগারগাঁও, পরিবর্তন হচ্ছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা উঠছে আজ রোববার। বিকাল ৪ টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে নবনির্মিত ১ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলায়  অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা-বৈঠকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপন/স্থানান্তরের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন এর জন্য উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়াও আজকের সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে  'নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়' নামকরণের প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়াও আরও ৪ বিষয় রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের এজেন্ডায়। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের সরকারি ছুটির খসড়া তালিকা অনুমোদন, গত ৭ হতে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মেয়াদে তিমুর লেস্তের দিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটির ৭৯তম অধিবেশনে (RC79) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ এবং গত ১৫ হতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মেয়াদে গ্লোবাল হেলথ ফোরামের একটি কনফারেন্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ।    

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেশ কয়েকবার শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে সচিবালয় সরাতে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বলা হয়, ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

জিয়া উদ্যানের উত্তর ও বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম দিকে, যেখানে প্রতিবছর বাণিজ্য মেলা হয়, সেখানেই ৩২ একর জমির ওপর সচিবালয় তৈরি করার কথা তখন বলা হয়েছিল। আরও বলা হয়েছিল, জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল পরিকল্পনা অনুসারে এ সচিবালয় হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চার লাখ ডলার খরচ করে মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনসহ পুরো শেরেবাংলা নগরের মূল নকশা দেশে আনা হয়েছিল। নকশা অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগরে ১৪ তলা ভিতের ওপর ৯ তলাবিশিষ্ট ৪টি মূল ভবন করার কথা ছিল। অবশ্য পরে সচিবালয় স্থানান্তর হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সচিবালয়কে সরানো নিয়ে আলোচনা হয়নি। বিএনপি সরকারের আমলে সচিবালয়ের ভেতর ২১ তলা একটি ভবন করতে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়। গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় এ প্রকল্পটি উত্থাপন করা হলে তা অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে বলে জানিয়েছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অনুমোদন পেলে দ্রুতই নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে। 

জাকারিয়া তাহের বলেন, প্রায় চার মাস আগে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়। প্রথমে বর্তমান সচিবালয়ের এক নম্বর ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের চিন্তা ছিল। পরে মন্ত্রিসভার আলোচনায় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকাকে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি আসে। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার সংকট, পার্কিংয়ের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং পুরনো ভবনগুলোকে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দপ্তর সচিবালয়ের বাইরে রয়েছে। অধিকাংশ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। এ ক্ষেত্রে নতুন সচিবালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৩০ থেকে ৩২ লাখ বর্গফুট জায়গা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

এদেকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদে উঠছে আজ। এর আগে গত বছরের ২৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত  প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান, নারীবিষয়ক অন্যান্য আইন, বিধিমালা ও নীতিমালায় এবং দেশে-বিদেশে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সব ক্ষেত্রে ‘মহিলা’ শব্দের পরিবর্তে ‘নারী’ শব্দটি বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি (আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে) মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (জাতীয় সংসদের) বৈঠকে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় নামকরণের সুপারিশ করা হয়। ওই বছরের ৭ জুলাই প্রথম আন্তমন্ত্রণালয় সভা এবং ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থা ও দপ্তর এবং মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা পদের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।

এম

Link copied!