জামায়াতের ভিসি নিয়োগেই ডাকসু জয়, যা বললেন ঢাবি অধ্যাপক  

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
জামায়াতের ভিসি নিয়োগেই ডাকসু জয়, যা বললেন ঢাবি অধ্যাপক  

ফাইল ছবি

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা সময়েই বিতর্ক ছিল। নীলক্ষেত থেকে ব্যালট উদ্ধারসহ নানা ঘটনা এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এবার এই নির্বাচন কীভাবে হয়েছে এবং একই সঙ্গে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রসংসদ নির্বাচন কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।

তিনি বলেন, অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থী উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে ডাকসুসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিজয়ী করার চেষ্টা হয়েছে বলে তার পর্যবেক্ষণ। তার ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি ‘হাইপ’ তৈরির কৌশল হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এতে মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল-কোনো একটি দলকে কি পুশ করা হচ্ছে না।

ড. মামুন বলেন, প্রশাসনের উচ্চপদে অবসরপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তাকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে একই ধরনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তার আশঙ্কা ছিল, এভাবে চলতে থাকলে দেশ আফগানিস্তানের পথে চলে যেতে পারে এবং ‘মব সংস্কৃতি’র দিকে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশে শিল্প-সংস্কৃতির ওপর মারাত্মক আঘাত আসতে পারত। শিক্ষা ব্যবস্থা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও চাপে পড়তে পারত। নারীদের চলাফেরা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পোশাক-পরিচ্ছেদ নিয়েও এক ধরনের অদৃশ্য চাপ ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট বাহিনী’র অত্যাচারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, একটি রাজনৈতিক দলই এই ‘বট বাহিনী’ বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গোষ্ঠী তৈরি করেছে। তবে এসব আশঙ্কা থেকে দেশ আপাতত রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি এবং এজন্য দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

নির্বাচনের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে ড. মামুন বলেন, এই নির্বাচনের একটি বড় প্রাপ্তি হলো—এর মাধ্যমে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দিকে ঝুঁকেছে এবং তা ধারণ করার চেষ্টা করেছে। এজন্য তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। দেশে ফিরে আসার পর থেকে নির্বাচন প্রচার ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে তার অভিমত। নানা ট্রল ও সমালোচনা সত্ত্বেও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখেন।

দেশ একটি বড় ক্রান্তিকাল থেকে রক্ষা পেয়েছে উল্লেখ করে এই শিক্ষক বলেন, সে সময় সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত নিলেই বর্তমান প্রাপ্তি থেকে অনেক দূরে সরে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। তবে এখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভূমিধস বিজয় এই প্রথম নয়-এর আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগও বড় জয় পেয়েছে, এরপর কী ঘটেছে সেটিও মনে রাখতে হবে। আকাশে না উঠে দেশকে মাথায় রেখে চললে তবেই দেশের মঙ্গল হবে, একই সঙ্গে দলেরও মঙ্গল হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসএইচ 

Link copied!