তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, সংকটের ব্যাখ্যা দিলেন মন্ত্রী 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, সংকটের ব্যাখ্যা দিলেন মন্ত্রী 

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি সংকট নয়, বরং অতিরিক্ত মজুদ প্রবণতাই বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
 
সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও বাংলাদেশ আগাম প্রস্তুতি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই; বরং গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন, যা ৩০ মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টনে। এই সময়ে ৪১ দিনে প্রায় ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বিক্রি হলেও মজুদ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রতিফলিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকার জ্বালানি সরবরাহ আরো বাড়িয়েছে। মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের মার্চের চাহিদাকে ভিত্তি ধরে ২০২৬ সালের মার্চে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে বাস্তব চাহিদা সেই হারে না বাড়লেও জনমনে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করছে।

উদাহরণ দিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘একটি মোটরসাইকেল যেখানে সাধারণত ৫ লিটার অকটেন নেয়, সেখানে বর্তমানে অনেকেই দিনে কয়েকবার এসে মোট ১৫ থেকে ২০ লিটার পর্যন্ত সংগ্রহ করছেন। ২০২৫ সালের মার্চে যেখানে একটি ফিলিং স্টেশনে দৈনিক গড়ে ৫,৪০০ লিটার অকটেন বিক্রি হতো, ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে হয়েছে ১০,৬২০ লিটার—যা প্রায় ৯৬ শতাংশ বেশি।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির ৬৩ শতাংশই ডিজেল, আর অকটেন ও পেট্রলের অংশ মাত্র ৬-৭ শতাংশ।

ফলে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের চিত্র প্রকৃত সংকট নয়, বরং অতিরিক্ত মজুদ প্রবণতার প্রতিফলন।’
অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে ইতিমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এতে ৫৩টি মামলা, প্রায় ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।

সরকার এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে এবং দেশীয় উৎস থেকে আরো ৩০ হাজার মেট্রিক টন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে দুই মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে ডিজেলের প্রকৃত ব্যয় প্রতি লিটার প্রায় ১৯৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এই খাতে সরকারের মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা।

মন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি কেনা ও মজুদ থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেকোনো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসএইচ 

Link copied!