ফাইল ছবি
জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার আনা মূলতবি প্রস্তাব গ্রহণ না হওয়ায় জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে দেশের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধী দল ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সরকার পক্ষ বলছে, বিষয়টি মূলতবি না করে সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি সম্ভব।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলেও সংসদে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে না পারা দুঃখজনক। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সংসদে জনগণের সমস্যার কথা বলার সুযোগ না থাকলে এর সার্থকতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কোনো মিল নেই। একদিকে সংকট নেই বলা হলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষ জ্বালানির জন্য ভোগান্তিতে পড়ছে। তার মতে, অর্থনীতি ও উৎপাদনের মূল ভিত্তি জ্বালানি হওয়ায় এ বিষয়ে গভীর আলোচনা জরুরি।
সরকার পক্ষের বক্তব্যে বলা হয়, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী মূলতবি প্রস্তাবের পরিবর্তে বিধি ৬৮ অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান অধিবেশনে ইতিমধ্যে একাধিক মূলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা সংসদীয় রীতিতে ব্যতিক্রম।
তার মতে, ধারাবাহিকভাবে মূলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে সংসদীয় প্রথা ও কার্যক্রমে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে। তিনি বিরোধী দলকে ৬৮ বিধিতে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
সরকার ও বিরোধী পক্ষের বক্তব্য শেষে ডেপুটি স্পিকার জানান, বিধি ৬৮ অনুযায়ী এক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে গঠনমূলক আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে এই বিতর্কে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথ খোলা রাখার সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :