পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের যুগে প্রবেশের পথে বড় অগ্রগতি অর্জন করবে বাংলাদেশ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপনের মধ্য দিয়ে মূল কার্যক্রম শুরু হবে। যদিও জ্বালানি লোডিংয়ের পরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি থাকবে, তবুও কয়েক মাসের মধ্যেই ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—একবার জ্বালানি লোড করা হলে তা দিয়ে প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ফলে তেল, গ্যাস বা কয়লার মতো নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময় পর আংশিক জ্বালানি প্রতিস্থাপন করতে হবে।
দুটি ইউনিটবিশিষ্ট এই প্রকল্পের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল, যেখানে প্রতিটি বান্ডেলে একাধিক জ্বালানি রড রয়েছে। এসব জ্বালানি ব্যবহার করে পারমাণবিক বিক্রিয়া বা নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন করা হবে, যা থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে।
সরকারের আশা, প্রাথমিক পরীক্ষামূলক ধাপ শেষ করে কয়েক মাসের মধ্যে আংশিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে এবং ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে কেন্দ্রটি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়ে এখান থেকে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটির আয়ু বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের বড় অংশই রুশ ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর প্রকল্প চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তবে উৎপাদন খরচ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :