পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে আজ পা রাখছে বাংলাদেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৭:২৮ এএম
পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে আজ পা রাখছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ অবশেষে পারমাণবিক শক্তির যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এক দশকের প্রস্তুতি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জটিল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের পর আজ মঙ্গলবার দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে—যা দেশের জ্বালানি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতা—বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ—অতিক্রম করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের অনুমোদন দেয়, যার মাধ্যমে আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

আজ বিকেলে শুরু হওয়া ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আনুমানিক ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতেই জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছালে ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পে বাংলাদেশের সঙ্গে কারিগরি ও আর্থিক অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে রাশিয়া। প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পদ্মা নদীর তীরবর্তী ঈশ্বরদীতে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে আধুনিক ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। উভয় ইউনিট চালু হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২৪০০ মেগাওয়াট, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। যদিও সময়সূচির কারণে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এতে সরাসরি অংশ নিতে পারছেন না, তবুও এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এম

Link copied!