পশুর হাটে চাঁদাবাজি নয় চলছে ‘সমঝোতার খেলা’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
পশুর হাটে চাঁদাবাজি নয় চলছে ‘সমঝোতার খেলা’

ফাইল ছবি

কোরবানির পশুর হাট মানেই যেন এক অদৃশ্য সমীকরণ। হাটে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির চিরাচরিত ও চেনা অভিযোগগুলো ছাপিয়ে এবার রাজধানী ও সিলেটে আলোচনা চাঙ্গা হয়েছে ইজারা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্তরালের ‘সমঝোতার খেলা’ নিয়ে। কোথাও প্রশাসনিক টেবিলে, আবার কোথাও খামারি ও রাজনৈতিক মহলের মৌখিক বোঝাপড়ায় চলছে এই খেলা, যা আপাতদৃষ্টিতে নিয়ম মনে হলেও আসলে একধরনের বাধ্যবাধকতা।

রাজধানীর বেশ কিছু পশুর হাটে এবার খামারিদের পড়তে হয়েছে নতুন এক নীরব অভিজ্ঞতার মুখে। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারিরা হাটের নির্দিষ্ট সময়ের আগে থেকেই পছন্দের জায়গায় পশু রাখার সুবিধা নিচ্ছেন। আর এই আগেভাগে স্থান নেওয়ার সুযোগকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক মহল খামারিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা করে বাড়তি অর্থ আদায় করছে।

হাটের চত্বরে এই বাড়তি টাকা নেওয়ার কোনো রসিদ বা আইনি ভিত্তি না থাকলেও খামারিরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। লোকসান বা হয়রানির ভয়ে তারা বাধ্য হয়েই এই টাকা পরিশোধ করছেন। প্রকাশ্যে কোনো হইচই বা জোরজুলুম না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটিকেই এখন হাটের ভেতরের মানুষ ‘সমঝোতার খেলা’ হিসেবে দেখছেন। খামারিরা এটিকে স্থান বুকিংয়ের অলিখিত খরচ মনে করে মেনে নিচ্ছেন, আর রাজনৈতিক মহলও কোনো ঝামেলা ছাড়াই হাতিয়ে নিচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ।

একই ধরনের সমঝোতার চিত্র দেখা গেছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারা প্রক্রিয়ায়। সেখানে প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত নিলামের বদলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে আগে থেকেই ইজারাদার নির্ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এবারের খেলায় যুক্ত হয়েছে হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং পরিচ্ছন্নতা খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়ে ইজারা মূল্য কম রাখার নতুন কৌশল।

যেমন দক্ষিণ সুরমার একটি হাট এবার মাত্র এক লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে, যেখানে গত বছর মূল্য ছিল প্রায় চার লাখ টাকা। অথচ এই হাটের পরিচ্ছন্নতা বাবদই ধরা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। আরেকটি হাটে ৩০ হাজার টাকা ইজারার বিপরীতে পরিচ্ছন্নতা ব্যয় দেখানো হয়েছে এক লাখ টাকা। সচেতন মহলের মতে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা হলে সিটি করপোরেশন আরও অনেক বেশি রাজস্ব পেত। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ভেতরের সমঝোতায় আড়ালেই থেকে গেছে বড় অঙ্কের রাজস্ব।

অনুমোদিত হাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং দূরত্বের ব্যবধান বেশি থাকায় দুই শহরেরই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ও খালি জায়গায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে অবৈধ পশুর হাট বসার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের মতো করে সমঝোতা করে এসব হাট বসানোর চেষ্টা করছেন।

তবে সিসিক ও ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ এই সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, স্থায়ী হাটগুলো থেকে এবার রেকর্ড রাজস্ব আসায় সার্বিক কোনো ক্ষতি হয়নি। আর খামারিদের ওপর কোনো ধরনের বাড়তি খরচের বোঝা চাপানো বা অবৈধ হাট বসানোর চেষ্টা করা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএইচ 


 

Link copied!