গহনাপ্রেমীদের জন্য সুখবর, স্বর্ণের দামে বড় পতন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
গহনাপ্রেমীদের জন্য সুখবর, স্বর্ণের দামে বড় পতন

ফাইল ছবি

টানা দরবৃদ্ধির পর দেশের স্বর্ণবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ধারা ভেঙে অবশেষে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এর ফলে বাজারে এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের (তেজাবি) দাম কমে আসায় নতুন এই দর নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কার্যকর হওয়া এই দাম বুধবারও বাজারে বহাল রয়েছে। তবে জুয়েলার্স সমিতি স্পষ্ট করেছে, স্বর্ণের এই নির্ধারিত দাম কেবল ধাতুর মূল্যের জন্য প্রযোজ্য। অলঙ্কার বা গহনা কেনার ক্ষেত্রে এর সঙ্গে সরকারি ভ্যাট ও প্রয়োজনীয় মজুরি যোগ হওয়ায় ক্রেতাদের প্রকৃত ব্যয় কিছুটা বাড়াবে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও কমেছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকায়। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ডলারের বিনিময় হার—সবকিছুর প্রভাব শেষ পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে এসে পড়ে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামকে প্রভাবিত করছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।

সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমে যায়, কারণ তখন সুদভিত্তিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা বৈশ্বিক ঝুঁকি বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কখনো চাপের মুখে পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এর চাহিদা স্থিতিশীল থাকে।

স্বর্ণের দরপতনের এই আবহ সৃষ্টি হওয়ায় একই সাথে রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪  হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম কমিয়ে রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা। বৈশ্বিক বাজার ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে আসা এই দরপতন সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মাঝে স্বস্তি এনেছে।

এসএইচ        
 

Link copied!