ছবি: সংগৃহীত
উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই কঠিন সময়ে দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা এবং প্রান্তিক মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার একগুচ্ছ অঙ্গীকার নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিতিতে এই বিশেষ সভা শুরু হয়। সভায় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাবের প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা শেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।
বিশেষ এই বৈঠক শেষে আজ বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দেবেন। এরপর স্পিকারের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী তাঁর জীবনের প্রথম বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
আজ সকালে বাজেট সভার আগে জাতীয় সংসদে পৌঁছালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বহুদিন পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকারের বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে, তাই এই বাজেট নিয়ে জাতির প্রত্যাশাও অনেক বেশি। আমরা সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেছি। ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে একটি সমৃদ্ধ বা প্রসপারাস দিকে যাওয়ার একটা বড় চেষ্টা আছে আমাদের।
বাজেটের সুফল যাতে কেবল উচ্চবিত্তের কাছে আটকে না থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছায়, সে বিষয়ে বর্তমান সরকারের অনড় অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সুফল যাতে দেশের সব মানুষের কাছে যায়, আমরা সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বস্তির কথা চিন্তা করেই এবারের বাজেটটি সাজানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে একদিকে যেমন চাল, ডাল, তেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর এক ধাক্কায় কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার মতো জনবান্ধব প্রস্তাব থাকছে, ঠিক তেমনি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমাতে ৩ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক আয়ের ওপর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত করহার ৩৫ শতাংশ করার সাহসী পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। থোক বরাদ্দের ওপর ভর করে আগামী জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল আংশিক কার্যকরের ঘোষণাও আসতে যাচ্ছে এই বাজেট থেকে। সব মিলিয়ে একটি পুঞ্জীভূত অর্থনৈতিক সংকটের খাদের মধ্য থেকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে টেনে তোলার এক নতুন পথনকশা আজ দেখতে যাচ্ছে দেশবাসী।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :