ফাইল ছবি
ঢাকা: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার ইতিবাচক খবর মিললেও, এর পাশাপাশি একটি বড় ধাক্কাও আসতে যাচ্ছে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার কর্মচারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ভাতায় বড় ধরনের কাটাছেঁড়া করতে পারে সরকার।
গত বুধবার সচিব কমিটির এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নবম পে-স্কেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে এর সার্বিক আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়। তবে এই বৈঠকেই সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে বিভিন্ন ভাতা পুনর্মূল্যায়ন ও সীমিতকরণের স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে। এমনকি কার্যকারিতা কমে যাওয়া ছোট ছোট কিছু ভাতা পুরোপুরি বাতিলও হতে পারে।
বৈঠক সূত্র জানায়, নতুন কাঠামোতে মূল বেতন বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন ভাতার পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেক বেড়ে যাবে। আর তাই রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে এসব ভাতা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চাকরিজীবীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাড়িভাড়া ভাতার হার পুনর্বিবেচনার বিষয়টি এখন জোরালো আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, শিক্ষা সহায়ক, উৎসব, বৈশাখী, টিফিন, ধোলাই এবং বিশেষ ভাতাসহ বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে অঞ্চলভেদে বাড়িভাড়া বাবদ মূল বেতনের ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে নতুন স্কেলে মূল বেতন বাড়ার সাথে সাথে এই ভাতার পরিমাণও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারি ব্যয়ের ওপর এক বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। সে কারণে ভারসাম্য বজায় রাখতে বাড়িভাড়া ভাতার বিদ্যমান শতাংশ কিছুটা কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক ও যাতায়াত ভাতার ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সিলিং বা সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির এই বাজারে মূল বেতন বৃদ্ধির আনন্দ কতটুকু স্থায়ী হবে, নাকি ভাতার কর্তন সেই আনন্দকে ফিকে করে দেবে-তা নিয়ে এখন হিসাব-নিকাশ চলছে। একদিকে বেতন বাড়ার স্বস্তি, অন্যদিকে সুযোগ-সুবিধা হারানোর শঙ্কা; দুইয়ে মিলে আমলাতান্ত্রিক টেবিলের এই নতুন সমীকরণ শেষ পর্যন্ত লাখো চাকরিজীবীর পকেটে কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :