ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের নবম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকরের প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। সরকারের প্রকাশিত একটি বিশেষ পর্যালোচনামূলক ই-বুকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে বিংশতম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই নতুন বেতনকাঠামো একবারে নয়, বরং দুই ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ই-বুকে জানা যায়, প্রস্তাবিত এই পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটির সদস্যরা এতে স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম বছরে চাকরিজীবীদের মূল বেতন কার্যকর হবে এবং পরবর্তী বছরে যুক্ত হবে বর্ধিত বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুবিধাদি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রেখে এই অর্থায়নের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের রিভিউ কমিটি সার্বিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় এনে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে।
ফলে সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন সাড়ে ১৬ হাজার টাকায় পৌঁছাবে, যার সঙ্গে যুক্ত হবে নির্ধারিত সামাজিক ও চিকিৎসা সুবিধাসমূহ।
ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের বৈঠক শেষে চলতি বছরেই এই পে স্কেল কার্যকর করার ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতি ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে আনবে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।
এসএইচ