থমকে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, সঙ্কট আরও গভীর হচ্ছে 

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
থমকে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, সঙ্কট আরও গভীর হচ্ছে 

ফাইল ছবি

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, ক্ষমতার পরিবর্তন এবং বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের পর ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও টেকসই প্রত্যাবাসনের কোনো সুসংগঠিত পথ তৈরি হয়নি। 

বিশ্লেষকদের মতে, কেবল মিয়ানমারের সামরিক জান্তা নেপিদোর সঙ্গে আলোচনা করে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। কারণ রাখাইনের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে যেকোনো টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের পাশাপাশি আরাকান আর্মির সাথেও আলোচনার প্রয়োজন সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমার সরকার পরিচয় যাচাইকরণের দাবি করলেও নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা ছাড়া এটিকে ডাহা প্রতারণা হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা।

একই সঙ্গে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ কমে গেছে। ফলে কমে এসেছে বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার তহবিলও।

ভারত ও চীন রাখাইনে তাদের নিজ নিজ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে সবচেয়ে বেশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থেকেও কূটনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারছে না।

বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার ও আরাকান আর্মি উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষার কথা বলছে। তবে মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন, নিরাপত্তার অভাব এবং ভিটেমাটি ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় প্রত্যাবাসন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কেবল একটি কাগজ-কলমের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি হিসেবেই আটকে থাকবে।

এসএইচ 

Link copied!