কয়েক দিন আগে মিয়ানমারকেন্দ্রিক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল চট্টগ্রাম অঞ্চল। এবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হিমালয়কন্যা সিকিমে সংঘটিত ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত কয়েক ঘণ্টায় সিকিমে একের পর এক ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভারতীয় গণমাধ্যম ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাংটক, নামচি ও মাঙ্গান এলাকায় অন্তত আট থেকে দশবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
এই ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলায় স্পষ্টভাবে টের পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল সিকিমের নামচি ও মাঙ্গান অঞ্চলসংলগ্ন এলাকায়।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ৩৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬। এরপর রাত ২টা ২০ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি কম্পন এবং ভোর ৩টা ১১ মিনিটে ৪ দশমিক ০ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত আরও পাঁচ থেকে ছয়টি ছোট আকারের আফটারশক শনাক্ত করা হয়েছে।
সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এসব ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্প অগভীর হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিকিম ও আশপাশের হিমালয় অঞ্চল একটি সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। বড় ধরনের কম্পনের পর ধারাবাহিকভাবে আফটারশক হওয়াটা এই অঞ্চলের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা।
এম
আপনার মতামত লিখুন :