নীলফামারী: মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে নীলফামারীর কৃষক শাহজাহান আলী। এক একর জমিতে লাউ চাষ করে প্রতিমাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করছেন তিনি। কীট নাশকের পরিবর্ততে খেতে জৈব নাশক ব্যবহার করায় বাজারে তার লাউয়ের চাহিদাও ব্যাপক।
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাষ্টারপাড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী এক একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু করেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে নবাব জাতের লাউ বীজ রোপন করেন।
সঠিক পরিচর্যা আর ক্ষেতে ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করায় অল্প দিনের মধ্যে লাউ গাছ লগলগে বেড়ে উঠে। ৫০ থেকে ৬০ দিন পর শুরু হয় লাউ উত্তোলন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তার প্রতিটি মাচায় পর্যাপ্ত পরিমান লাউ ধরেছে। লাউয়ের ভারে মাচা হেলে পড়েছে। জুলাই মাস থেকে পরিপক্ষ লাউ বাজারে বিক্রী শুরু করেছেন তিনি।
লাউ চাষী শাহজাহান আলী জানান, এক একর জমিতে লাউ চাষ করতে সার,বীজ,মাচা তৈরী ও অন্যান্য খরচ বাবদ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। জুলাই মাসেই প্রায় ৭০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। প্রতি দিন গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করি। অক্টোবর মাস পর্যন্ত আমি লাউ বিক্রি করতে পারব।
আমাকে বাজারে যেতে হয় না। আশপাশের বাজার গুলো থেকে পাইকাররা এসে খেত থেকে কিনে নিয়ে যায়। লাউ বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার লোকমান আলম বলেন, কৃষক শাহজাহান আলী মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন।
জৈব বালাই নাশক ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করায় তার লাউ নিরাপদ সবজি হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদাও ব্যাপক। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ বাড়ছে এই উপজেলায়।
তিনি বলেন, লাউ উত্তোলনের পর একই মাচা ব্যবহার করে আরও ২টি ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এই এলাকার কৃষকরা।
এআর
আপনার মতামত লিখুন :