নাটোরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ

  • নাটোর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
নাটোরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ

নাটোরের লালপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গোধড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় বিক্ষুব্ধরা নাটোর–পাবনা মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে এবং একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০ নম্বর কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দোহার সঙ্গে লালপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মজনু পাটোয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকদিন আগে চেয়ারম্যান প্রার্থী দোহার সমর্থক হাসান নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজনুকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

বুধবার রাতে স্থানীয় বাজারে এ বিষয়টি নিয়ে মজনু পাটোয়ারী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, এক পর্যায়ে হাসান ভিডিওটি মিথ্যা বলে স্বীকারোক্তি দেন বলে জানা যায়। তবে পরদিন বৃহস্পতিবার হাসান লালপুর থানায় অভিযোগ করেন যে, তাকে জোর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ ফিরে যাওয়ার পরই দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে বড়াইগ্রাম উপজেলার গুনাইহাটি গ্রামের রাশেদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তার আহত হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গুনাইহাটি এলাকার লোকজনও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধরা নাটোর–পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে এবং মজনু পাটোয়ারীর চাচাতো ভাই মোমিন পাটোয়ারীর একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ, ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি, বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এবং বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে বড়াইগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম এবং লালপুর থানার ওসি (তদন্ত) এস এম সিরাজুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিকভাবে চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এম

Link copied!