ওসির অপসারণের দাবিতে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ

  • বাগেরহাট | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ওসির অপসারণের দাবিতে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ

ছবি প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মদ্যপান করে অসামাজিক আচরণ, নেতাকর্মীদের হেনস্তা এবং গালমন্দ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ওসির তাৎক্ষণিক অপসারণের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে বাগেরহাটের মোংলা পৌর এলাকায় বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে পৌর বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, গত বুধবার রাতে মোংলা থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান অতিরিক্ত মদ্যপান করে চরম মাতলামি ও অসামাজিক আচরণ করেন। ওই মদ্যপ অবস্থায় তিনি বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ গালমন্দ করেন এবং অনাহুতভাবে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করেন। এ সময় তিনি প্যান্টের চেইন খুলে বিশেষ অঙ্গ দেখান।

বিএনপি নেতাদের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় ওসি আতিকুর রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বলেন, তিনি ১৭ বছর আওয়ামী লীগ করেছেন। এই রাজনৈতিক পরিচয় খাটিয়ে তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে তীব্র অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার আসনে বসে এমন অসামাজিক, দলীয় ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা অবিলম্বে এই ওসির অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত এই বিতর্কিত ওসির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তবে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাহেব আলী মল্লিক, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব নুরুদ্দিন টুটুল, পৌর তাঁতি দলের সদস্যসচিব আজিজুর রহমান সোহাগ, পৌর যুবদল নেতা রতন মাহমুদ ও বিএম ওয়াসিম আরমানসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

তবে বুধবার রাতের ঘটনা, মদ্যপান ও রাজনৈতিক বক্তব্যের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা মদ্যপান, গালমন্দ বা পলিটিক্যাল পরিচয় দেওয়ার সব অভিযোগই ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পুলিশের নিয়মিত দায়িত্ব পালন ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে কোনো একটি মহলের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!