পদ্মার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনেও চাষির মুখে হতাশা

  • রাজশাহী ব্যুরো | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
পদ্মার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনেও চাষির মুখে হতাশা

ছবি: প্রতিনিধি

রাজশাহীতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হয় বাঘা উপজেলায়। এবারও সেখানে ব্যাপক আবাদ হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের কাজ চলছে। মাঠজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। পেঁয়াজ তোলার কাজে শত শত শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন।

মঙ্গলবার পদ্মার চরের চকরাজাপুর বাজারে পাইকারি হিসেবে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই দামে উৎপাদন খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাওয়ায় লাভের অঙ্ক মেলানো যাচ্ছে না।

চলতি মৌসুমে যারা পেঁয়াজ আবাদ করেছেন, তাঁরা ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন। তবে বর্তমান বাজারদরে অনেক কৃষকই লাভবান হতে পারছেন না। বেশি লাভের আশায় আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ করা হলেও এ মৌসুমে খরচ উঠবে কি না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। অনেককে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হতে পারে।

ভালো দামের আশায় কেউ কেউ বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বাজারদর অনুকূলে না থাকায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বিশেষ করে যারা বেশি পেঁয়াজ চাষ করেছেন, তাঁদের অনেকেই এবার লাভের মুখ দেখবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।

পদ্মার চরাঞ্চলে ঢ্যামনা ও চারা নামে দুই ধরনের পেঁয়াজ চাষ হয়। এর মধ্যে চারা পেঁয়াজ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। এই জাতের পেঁয়াজ চরাঞ্চলেই বেশি চাষ হয়ে থাকে।

চরাঞ্চলে পেঁয়াজ চাষ করতে গিয়ে জমি লিজ, বীজ, সার ও শ্রমিক বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা চরম চাপে পড়েছেন।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর। বাস্তবে চাষ হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের তুলনায় পদ্মার চরাঞ্চলেই পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়েছে।

তবে এখনো পুরোপুরি পেঁয়াজ উত্তোলন শেষ হয়নি। সামনের দিনে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হলে কৃষকেরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!