জীবননগরে ২০ টি ইট ভাটার ১৯ টিই অবৈধ

  • চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:৫১ এএম
জীবননগরে ২০ টি ইট ভাটার ১৯ টিই অবৈধ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অধিকাংশ ইটভাটারই নেই লাইসেন্স। শুধু তাই নয়, অনুমোদনহীন ইটভাটায় দেদারছে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। আবার কিছু অনুমোদনহীন ভাটা গড়ে উঠেছে ফসলি জমির মাঝখানে।

প্রশাসন দায়সারা অভিযান চালিয়ে ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দিলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার সেই বন্ধ করা ভাটা পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করছে। এসব ইটভাটায় প্রতিবেদন করতে সাংবাদিক গেলে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টাও করা হচ্ছে।

জীবননগরে ২০টি ইটভাটার মধ্যে ১৮টি ভাটার কার্যক্রম চালু রয়েছে, দুটি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ইটভাটার লাইসেন্স থাকলেও তিনটি লাইসেন্স নবায়ন না করায় শুধু গোয়ালপাড়ায় অবস্থিত মোল্লা ইটভাটার লাইসেন্স রয়েছে। উপজেলার সীমান্ত ইটভাটা, এএনজেএম ভিভিএম, পিবিএম, এসটিএইসবি ইটভাটাসহ বেশ কিছু ইটভাটার কার্যক্রম চলছে ফসলি জমির মাঝখানে। এমনকি এসব ইটভাটায় দেদারছে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

নারায়নপুর গ্রামের আবদুল সবুর অভিযোগ করে বলেন, ভিভিএম ও সীমান্ত ইটভাটা ফসলি জমির মধ্যে অবস্থিত। তা ছাড়া ভাটার আশপাশে মানুষ বসবাস করে। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় নানা ধরনের রোগব্যাধি হচ্ছে। প্রশাসন এগুলো দেখেও যেন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। মাঝেমধ্যে আসে, জরিমানা করে আবার চলে যায়।

বাড়ভাঙ্গা গ্রামের আবু তালেব অভিযোগ করে বলেন, গতবার ভিভিএম ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে প্রশাসন ইটভাটার ইট নষ্ট করে দেয় এবং ইটভাটা বন্ধ করে দেয়। কয়েক দিন যেতে না যেতেই ভাটা আবার চালু করে। তারা কি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই চালু করেছে? তা ছাড়া প্রশাসন সাধারণ মানুষের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটার মালিক অভিযোগ করে বলেন, সংবাদ প্রকাশ হলে আমাদের একটু বেশি টাকা দিতে হবে, তা ছাড়া আর কিছু হয়না। প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসনকে বিভিন্ন দিবসে টাকা দিতে হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরেও টাকা দিতে হয়। তাহলে কি এমনিতেই ভাটা চালাতে দিচ্ছে? প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলতে হয় ইটভাটা মালিকদের।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জীবননগর উপজেলায় চারটি লাইসেন্স ছিল, কিন্তু তিনটি লাইসেন্স নবায়ন না করায় মাত্র একটি ইটভাটার লাইসেন্স রয়েছে। বাকি ১৯ টি ভাটার কোন লাইসেন্স নেই। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চলমান।

এম

Link copied!