ছবি: প্রতিনিধি
ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ঘোষিত সময় পেরিয়ে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা গ্যাস না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
সোমবার ফেনী শহর ঘুরে দেখা যায়, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, ট্রাংক রোড থেকে সালাউদ্দিন মোড়, শহীদ মিনার থেকে সদর হাসপাতাল সড়কে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা ছিল খুবই কম।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যায় দীর্ঘ সারি। স্টার লাইন স্পেশালাইজড হাসপাতাল এলাকা থেকে পাঁচগাছিয়া প্রগতি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন পর্যন্ত ছিল গাড়ির লম্বা লাইন।
সিএনজি চালক রিপন বলেন, “সকাল ৮টায় গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি, দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটেও গ্যাস পাইনি।”
আরেক চালক ছোটন বলেন, “সকাল ৯টা থেকে লাইনে আছি, এখনো গ্যাস মেলেনি।”
চালক রাশেদ জানান, “ভোর ৫টায় দেবীপুর ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস না পেয়ে পরে পাঁচগাছিয়া প্রগতি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে আসি। এখানেও এখনো গ্যাস পাইনি।”
প্রগতি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাজমুল বলেন, “গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় সিএনজি গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে চালকদের পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।” তিনি আরও জানান, এতে চালকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় কিছু এলাকায় ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহিপাল থেকে ট্রাংক রোডের ভাড়া ১০ টাকা হলেও কেউ কেউ জনপ্রতি ২০ টাকা আদায় করছেন।
যাত্রী ওমর ফারুক বলেন, “গাড়ি কম থাকার অজুহাতে চালকেরা দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছেন। মহিপাল থেকে ট্রাংক রোডে ১০ টাকার ভাড়া এখন ২০ টাকা দিতে হচ্ছে।”
আরেক যাত্রী রহিমা বলেন, “সিএনজি না পেয়ে রিকশায় যেতে হচ্ছে। মহিপাল থেকে ট্রাংক রোডের রিকশা ভাড়া যেখানে ৩০ টাকা, সেখানে আজ ৪০ টাকা দিতে হয়েছে।”
বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেনীর গ্যাস স্টেশনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় গ্যাস সরবরাহে স্বল্পচাপ তৈরি হয়। রবিবার দুপুর থেকে জেলাজুড়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানানো হয়। সাময়িক অসুবিধার জন্য বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :