ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শহীদ তাহিদুলের (২১) মরদেহ দাফনের দেড় বছর পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বড় চাউলাকাঠী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও বায়েজিদ উর রহমান বলেন, “তাহিদুল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিহত হয়েছেন কি না—তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আদালতের নির্দেশে তাঁর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুনরায় দাফন করা হবে।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “তাহিদুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, “তাহিদুল ফার্মগেট এলাকায় একটি ওয়ার্কশপে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মা লাবলী বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বড় ভাই তরিকুল ইসলাম প্রায় অক্ষম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তাহিদুলই।”
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে আন্দোলনরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন তাহিদুল। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নানা জটিলতা শেষে তাঁর মরদেহ ঢাকা থেকে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। ৬ আগস্ট সকাল ১০টায় চাখার সরকারি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন মাঠে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তাহিদুলের বাবা আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা খুব দরিদ্র পরিবার। তাহিদুলই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। দিনমজুরি করে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চলে না। ছেলের স্বপ্ন ছিল গ্রামের বাড়িতে একটি ভালো ঘর বানিয়ে সবাইকে নিয়ে শান্তিতে থাকা। কিন্তু শত্রুর গুলিতে সেই স্বপ্ন চূর্ণ হয়ে গেছে।”
মরদেহ উত্তোলনের সময় বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ উর রহমানের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান, বানারীপাড়া থানার উপপরিদর্শক মো. ইসাহাক আলীসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এসবিআর
আপনার মতামত লিখুন :