অস্তিত্ব সংকটে ‘আইবুড়ি’ নদী, পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন

  • সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০২:০১ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ‘আইবুড়ি’ নদী, পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন

শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আইবুড়ি নদী নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার বিঘা কৃষিজমি এবং নদীতীরের অন্তত ৭০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পুনঃখননের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানীখ্যাত শ্যামনগরের ধুমঘাট হাটখোলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি এম. জিল্লুর রহমান। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ডা. যোগেশ মণ্ডলের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, প্রজন্ম রক্তদান সংস্থার সভাপতি আহমেদ রাজু, এসডি মিলন সংঘের শরীফ হোসেন, জেলেখালি ভাই ভাই সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার পরমাণ্য, শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠনের অল্পনা রানী মিস্ত্রি, সাইমুম যুব সংঘের সুমন হোসেন ও মধুদ্যুতি মণ্ডল। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বিলাল হোসেন।

বক্তারা বলেন, অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ দেওয়ায় স্বাভাবিক স্রোত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে এবং পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা হারিয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে দুই তীরের গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে।

তারা আরও বলেন, কৃষিপ্রধান মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম জেলেখালী ও কচুখালী গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট ও দক্ষিণ শ্রীফলকাটিতে প্রায় ১৪ হাজার বিঘা জমিতে ধান, সবজি ও চিংড়ি চাষ হয়। এসব এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত আইবুড়ি নদীই ছিল কৃষি সেচ ও জীবিকার প্রধান ভরসা।

বক্তারা বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ ও পানি নিষ্কাশন-দুটিই এখন সংকটাপন্ন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হবে।

মানববন্ধন থেকে সরকারি উদ্যোগে আইবুড়ি নদী পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, নদীটি পুনরুদ্ধার করা না গেলে কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশ-সবই হুমকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এসএইচ 


 

Link copied!