ছবি: প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গবাদিপশু পাচার থামছে না। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কিছু চালান জব্দ করলেও অভিনব কৌশলে অধিকাংশ গরু দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে উদ্বেগ বেড়েছে দেশীয় খামারিদের মধ্যে।
সর্বশেষ ৫৩ বিজিবির অভিযান অনুযায়ী, গত সোমবার (২ মার্চ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রাম থেকে ৮টি এবং চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখেরআলী বিওপির আওতাধীন চাচ্চুরচর এলাকা থেকে আরও ২টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ১০টি গরুর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার ৩৩টি গরু ও ২টি মহিষ জব্দ করা হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। গত বছরের শুরু থেকে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭৯টি গরু ও ২৫টি মহিষ জব্দ করা হলেও মাত্র কয়েকজন চোরাকারবারিকে আটক করা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জহুরপুর ও জহুরপুরটেক সীমান্ত এলাকায় প্রভাবশালী কয়েকজনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট। স্থানীয়রা এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের হিসেবে চিহ্নিত করেছেন—সাদেক, আবু, ইকবাল, মামুন, ডলার, মুকুল, কুতুবুল ও তৌহিদ।
সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডের ধরন অনুযায়ী, গভীর রাতে কলাগাছের ভেলা বা ছোট নৌকা ব্যবহার করে নদীপথে গরু সীমান্ত পার করা হয়। পরে এসব গরু সীমান্ত সংলগ্ন আমবাগান বা ফসলি জমিতে অস্থায়ীভাবে লুকিয়ে রাখা হয়। সিন্ডিকেটের লাইনম্যানদের সংকেত পেলে রাতের অন্ধকারে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরকে “ম্যানেজ” করার নাম করে গরুপ্রতি ১৫–২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
সিন্ডিকেট সাধারণত নিজেদের আড়ালে রেখে সীমান্ত এলাকার দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে। টাকার প্রলোভনে সাধারণ মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করছে এবং অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছে। ২১ জানুয়ারি রাতে তিন বাংলাদেশি গরু চোরাচালানের অভিযোগে ভারতের মুর্শিদাবাদে আটক হন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সীমান্তে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বা নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষই হচ্ছে, কিন্তু সিন্ডিকেটের মূল হোতারা নিরাপদে থাকছে।
ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা গবাদিপশুর কারণে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। খামারিরা বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না, অনেক খামারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এছাড়া কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই প্রবেশ করায় সংক্রামক রোগের আশঙ্কা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খুরা রোগ ও লাম্পি স্কিন ডিজিজ দেশীয় গবাদিপশুর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :