ভালো ফলনেও দাম নেই, দিশেহারা ঈশ্বরদীর পেঁয়াজ চাষিরা

  • আলমাস আলী, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ভালো ফলনেও দাম নেই, দিশেহারা ঈশ্বরদীর পেঁয়াজ চাষিরা

ছবি: প্রতিনিধি

ভালো ফলন হলেও দাম না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন পাবনার ঈশ্বরদীর মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষিরা। চলতি মৌসুমে বাজারে প্রত্যাশিত দাম না থাকায় অনেক কৃষককে লোকসান গুনে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঈশ্বরদী উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। উপজেলার লক্ষীকুন্ডা, চরগড়গড়ি, বিলকাদা, কৌকুন্ডা, কামালপুর, ভাড়ইমাড়ি ও ছলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়েছে।

শুক্রবার ও শনিবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে প্রতি মণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের পেঁয়াজের দাম আরও কম, ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ। অথচ কৃষকদের দাবি, প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা।

আওতাপাড়া হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগেও প্রতি মণে ১০০ থেকে ২০০ টাকা লাভ ছিল। কিন্তু এখন বাজার অর্ধেকে নেমে আসায় প্রতি মণে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। অনেক কৃষক চোখের পানি মুছতে মুছতে লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করে বাড়ি ফিরছেন।

উপজেলার আড়মবাড়িয়া বাজারে খুচরা ব্যবসায়ী রাব্বি বলেন, তিনি পাবনার আতাইকুলা থেকে পেঁয়াজ কিনে পরিবহন খরচ বাদে মাত্র তিন টাকা লাভে বিক্রি করছেন। বর্তমানে তিনি পাঁচ কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন, অর্থাৎ প্রতি কেজি ২০ টাকা।

চাষিরা জানান, সামনে ঈদের খরচ মেটাতে নগদ টাকার প্রয়োজন হওয়ায় অনেকেই মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে লোকসানেই বিক্রি করছেন। এতে ব্যবসায়ীরা কম দামে পেঁয়াজ কিনে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখন মুড়িকাটা পেঁয়াজের আমদানি বেশি, কিন্তু ক্রেতা কম। এ পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না। অনেক কৃষক একসঙ্গে পেঁয়াজ তুলতে শুরু করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে করে অনেকেই গ্রামে গ্রামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় বাজারে ক্রেতা কমে গেছে।

উপজেলার সেখেরচক গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ৫০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ৪০ হাজার টাকার বেশি। পেঁয়াজ তুলতে শ্রমিক খরচ হয়েছে আরও প্রায় ৯ হাজার ৬০০ টাকা। সব মিলিয়ে খরচ অনেক বেশি হলেও বাজারে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তাতে বড় ধরনের লোকসান হবে।

তিনি বলেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়লে হইচই পড়ে যায়, কিন্তু এখন চাষিদের লোকসানের কথা কেউ বলছে না। এভাবে লোকসান হলে অনেক কৃষকই কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হবেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আলীম বলেন, বর্তমানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। কৃষকদের একটু সময় নিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। একসঙ্গে বেশি পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কমেছে। তবে উপজেলায় পাঁচটি এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতিটিতে প্রায় ২০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব। কিছুটা সময় নিয়ে বাজারজাত করলে কৃষকরা ভালো দাম পেতে পারেন।

এসএইচ 

Link copied!