ছবি : প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি কিস্তিতে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা যাবে উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে সরকারের উদ্যোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে নগরের পতেঙ্গা এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খাসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খাসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকলে সীমিত সম্পদের মধ্যেও বড় সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এই কর্মসূচিতে পরিবারের নারী প্রধানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিচালনায় নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অনেক সময় তাদের শ্রম অদৃশ্য থেকে যায়। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে সেই শ্রমের স্বীকৃতি দেওয়া এবং নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা পরিবার পরিচালনা, সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো হবে। ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)’ পদ্ধতির মাধ্যমে সহায়তার অর্থ সরাসরি স্থানান্তর করা হবে।
প্রাথমিকভাবে নগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার প্রতি কিস্তিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে।
কর্মসূচির আওতায় দেওয়া কার্ডগুলো স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই কার্ড বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডাটাবেজ হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করা সম্ভব হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরের অন্যান্য ওয়ার্ডেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, কৃষিঋণ পুনর্গঠন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে একটি বহুমুখী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও সামাজিক সেবা একই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :