ডিক্রিকৃত জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

  • কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
ডিক্রিকৃত জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : প্রতিনিধি

পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ডিক্রিকৃত জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে হামলা, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগে পৌর জামায়াতের এক নেতাসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি পটুয়াখালীর মোকামস্থ বিজ্ঞ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালতে দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী মো. মোতালেব শরীফ (৭১) অভিযোগ করেন, তার ডিক্রিকৃত সম্পত্তিতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার লতাচাপলী মৌজার এসএ খতিয়ান নং ১২৬২ (১) এর দাগ নং ৫২৪৬ এর পশ্চিমাংশে এ ঘটনা ঘটে।

বাদীর দাবি, পূর্বে দায়ের করা দেওয়ানি মামলা নং ৫৬/২০১৪ এর রায়ে তিনি জমির মালিকানা পান এবং আদালতের নিযুক্ত অ্যাডভোকেট কমিশনারের মাধ্যমে জমি নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নং ৩৮৫/২০২৩ এ আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কুয়াকাটা পৌর জামায়াতের রোকন সদস্য মো. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিক্রিকৃত জমির পশ্চিম পাশে অবস্থিত বাড়ি ও একটি আবাসিক হোটেলের দেয়াল হ্যামার ও সাবল দিয়ে ভেঙে ফেলে।

এ সময় সৌন্দর্যবর্ধক লাইট, পার্কিংয়ের টাইলস, ফুলের টব ভাঙচুর এবং কয়েকটি গাছ কেটে প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। পরে সেখানে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা চারটি টিনশেড ঘর স্থাপনেরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মোতালেব শরীফের দাবি করা পৈত্রিক সম্পত্তির সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ভাঙা রয়েছে এবং সেখানে নতুন করে কিছু স্থাপনা নির্মাণের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাদী মোতালেব শরীফ বলেন, আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী জমি আমার দখলে রয়েছে। গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে এসে তারা প্রাচীর ভেঙে ভাঙচুর চালায় এবং জোর করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাতের দিকে শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে দেখি কয়েকজন লোক দেয়াল ভাঙছে। পরে জানতে পারি জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পৌর জামায়াতের রোকন সদস্য ও মামলার আসামি মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, মামলার বাদী আমার আপন মামা। বিরোধীয় জমিতে আমার মায়ের সম্পত্তি রয়েছে এবং তা বিএস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত। আমরা কারো জমি দখল করিনি, বরং আমাদের জমিই দীর্ঘদিন ধরে দখলে ছিল।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

পিএস

Link copied!