বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে রাইসা ইসলাম নামে এক মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর আগে তার দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রাইসা ইসলাম বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেহেরগতি ইউনিয়নের নিজ এলাকায় সে অগ্নিদগ্ধ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাইসার বাবা পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। তার বড় ভাই ঢাকায় একটি ফলের দোকানে কাজ করেন। পারিবারিকভাবে শিশুটি বাবার সঙ্গেই বসবাস করত। জানা গেছে, তার মা অনেক আগেই অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর আগে দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, কেউ একজন তাকে অনৈতিক কিছু করতে বলেছিল এবং সে তাতে রাজি না হওয়ায় তার শরীরে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শিশুটিকে ঘটনার বিষয়ে কিছু বলতে শোনা যাচ্ছে। মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।
ওসি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :