ইউএনও রুমানা আফরোজকে ঘিরে অপপ্রচার: দোষীদের শাস্তি দাবি

  • বরিশাল প্রতিনিধি   | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ইউএনও রুমানা আফরোজকে ঘিরে অপপ্রচার: দোষীদের শাস্তি দাবি

ছবি : প্রতিনিধি

বরিশাল: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও রুমানা আফরোজ প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনমুখী সেবার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং অনিয়ম প্রতিরোধে তার দৃঢ় অবস্থান প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে প্রশংসিত হয়। বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত তদারকি ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

বিশেষ করে ভূমি সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ভিজিএফ-ভিজিডি বিতরণ, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল। অভিযোগ পাওয়া মাত্র তিনি অনেক ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, ফলে সাধারণ মানুষ সহজে প্রশাসনিক সেবা পেত।

এলাকাবাসীর দাবি, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি কোনো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা নেননি। বরং সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়ম রোধে তিনি ছিলেন আপসহীন। স্থানীয়দের মতে, তার এই কঠোর অবস্থান একটি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরাগভাজন হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তিনি ছিলেন জনবান্ধব ও সেবামুখী একজন কর্মকর্তা। সাধারণ মানুষ তার কাছে সহজেই যেতে পারত। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দুঃখজনক।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রশাসনিক কঠোরতা বা বিরোধের জের ধরে একটি গোষ্ঠী এ অপপ্রচারে জড়িত থাকতে পারে।

সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অপপ্রচার শুধু একজন কর্মকর্তার সম্মানহানিই ঘটায় না, বরং প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করে। এতে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর।

স্থানীয় সমাজকর্মী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা তার কাজ সরাসরি দেখেছি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। এটি একটি পরিকল্পিত চরিত্রহননের চেষ্টা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

এদিকে, এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তারা আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্যও সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, একজন সৎ ও জনবান্ধব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে তা ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও নেতিবাচক বার্তা বহন করে। তাই সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

পিএস

Link copied!