অর্ধেক অপারেশন রেখেই পালালেন চিকিৎসক

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
অর্ধেক অপারেশন রেখেই পালালেন চিকিৎসক

ছবি : প্রতিনিধি

​লালমনিরহাট: লালমনিরহাট জেলা শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অবস্থিত ‘আয়েশা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ এক রোগীর হাতের টিউমার অর্ধেক অপারেশন করে চিকিৎসক পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা ক্লিনিকটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, গত ২ মে সদর উপজেলার এক দরিদ্র রিকশাচালকের হাতের টিউমার অপারেশনের জন্য আয়েশা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েম নিজেই এই সার্জারি করার দায়িত্ব নেন। পরে দুপুর ২টার দিকে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডা. সায়েম ওটি থেকে বেরিয়ে এসে জানান, টিউমারটি হাতের রগের সাথে জড়িয়ে থাকায় তার পক্ষে অপারেশন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এরপর রোগীকে দ্রুত ঢাকায় রেফার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে ক্লিনিক থেকে সটকে পড়েন।

​ভুক্তভোগী রোগীর ভাতিজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডাক্তার সায়েম আগে রিপোর্ট দেখে বলেছিলেন তিনি এই অপারেশন করতে পারবেন। কিন্তু ওটিতে হাতের কবজি অর্ধেক কাটার পর তিনি বলেন এটা তার দ্বারা সম্ভব না। তার অদক্ষতার কারণে আমার চাচার হাত এখন পঙ্গু হওয়ার পথে। তিনি একজন এনেসথেসিয়া ডাক্তার হয়ে কেন সার্জারি করতে গেলেন? আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

​উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. সায়েম মূলত একজন এনেসথেসিস্ট হলেও অধিক মুনাফার লোভে জেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়মিত সার্জন হিসেবে অপারেশন করে থাকেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও মাঝপথে অপারেশন রেখে পালিয়ে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিসিক এলাকায় অবস্থিত সুমনের মালিকানাধীন এই ক্লিনিকে এমন অপেশাদার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

​ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক মালিক সুমন ও অভিযুক্ত ডা. সায়েমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

​এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম জানান, ‘কোনো এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ সার্জারি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পিএস

Link copied!