খাল খননের নামে সারাদেশে লুটপাট চলছে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

  • বরিশাল ব্যুরো | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
খাল খননের নামে সারাদেশে লুটপাট চলছে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

ছবি: প্রতিনিধি

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, খাল খনন প্রকল্পের নামে সারাদেশে ব্যাপক লুটপাট চলছে। প্রকৃত প্রয়োজন থাকা খালগুলো খনন না করে ইতোমধ্যে খনন করা খালের পাশেই নতুন করে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল সোমবার রাতে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা বাজার এলাকায় এবি পার্টির কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যে খালগুলো অন্য সরকারি দপ্তর ইতোমধ্যে খনন করেছে, সেগুলোর পাশেই আবার নতুন করে খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। অথচ যেসব খাল প্রকৃতপক্ষে খননের প্রয়োজন ছিল এবং যেগুলোর জন্য বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। এভাবে খালের নামে সারাদেশে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য কায়েম করা হচ্ছে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ প্রকৌশলীদের বরাতে বলেন, এক কিলোমিটার খাল খননে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অনেক প্রকল্পে এক কিলোমিটার খালের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমালোচনা করে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার বিভিন্ন ধরনের কার্ড দিচ্ছে। সেই কার্ড বিতরণের প্রচারের জন্য ৪১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে সারাদেশে ৪৪ হাজার বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে। সরকার মানুষের জন্য ৫ টাকা ব্যয় করে, আর সেই ৫ টাকার প্রচারে ৫ হাজার টাকা খরচ করে। বিলবোর্ড নির্মাণের কাজ সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই পাবে এবং এই ৪১২ কোটি টাকা থেকে সরকারি দলের অনেকে কোটিপতি হয়ে যাবে।

দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাদকের পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিটি মহল্লাই মাদকের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একইভাবে প্রশাসনের অসাধু অংশের সহযোগিতাও এতে জড়িত থাকে। তাই এলাকাবাসীকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

মাধবপাশা ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক মো. আব্দুল আজিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার জিএম রাব্বী, কর্নেল (অব.) আব্দুল খালেক, মো. মোহেবর, সিদ্দিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন শাখার সদস্য সচিব মো. জামাল আকন।

এসএইচ 

Link copied!