ছবি : প্রতিনিধি
ঈশ্বরদী: সুস্থ বিড়াল, সুস্থ পরিবার এই প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে এবং স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানির সহযোগিতায় গৃহপালিত (পোষা) বিড়ালের জন্য বিনামূল্যে ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকালে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের কার্যালয়ে সম্মুখে সপ্তাহব্যাপী (২২ জুন থেকে ৩০ জুন) এই ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চলবে। এই ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার মো. ফারুক হোসেন, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মইরুল ইসলাম খান, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন, বিড়ালকে ক্যাট ফ্লু ভ্যাকসিন নিচে আসা শিহাব হোসেন, এফ, এ, (আই ) মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, বিড়াল মানুষের অন্যতম প্রিয় পোষা প্রাণী। তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিন বিড়ালকে ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে ফিলাইন ভাইরাল রাইনোট্র্যাকাইটিস (Feline Viral Rhinotracheitis) ও ক্যালিসিভাইরাস (Calicivirus) সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।
উপজেলার দাশুড়িয়া থেকে দাশুড়িয়া ডিগ্রি অনার্স কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মো. শিহাব হোসেন ৪টা বাচ্চা নিয়ে আসেন ক্যাট ফ্লু ভ্যাকসিনেশন এর জন্য। তিনি জানান, এক বছর আগে পাবনা থেকে একটি ছোট বাচ্চা বিড়াল পোষার জন্য নিয়ে আসি বাসায়। তারপর বাচ্চা বিড়ালটাকে লালন পালন করতে থাকি। এবছর এই মার্চ মাসের দিকে বিড়ালের বাচ্চাটি বড় হওয়ার পর ৪টা বাচ্চা প্রসব করে। বিড়ালের ৪টি বাচ্চার নাম রাখা হয় চন্দ্র, তারা, মধু ও চিনি। তিনি জানান, বিড়ালগুলোর খাওয়ার জন্য দাশুড়িয়ায় সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার দুইদিন হাট বসে। এই হাট থেকে ৪ শত থেকে ৫ শত টাকার মাছ কিনি। এছাড়াও বাসায় নিয়মিত ভাত,রুটি, ডিম খাওয়ানো হয়। সাথে অন্যান্য খাবার খাওয়ানো হয়। এতে বিড়ালগুলোর খাবার জন্য মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। আজ এই বাচ্চাগুলোকেই আমি নিয়ে আসছি ক্যাট ফ্লু ভ্যাকসিনেশন দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমরা বিড়ালের ক্যাট ফ্লু ভ্যাকসিন দিচ্ছি। বর্তমান সময়ে বিড়ালের ভাইরাল ফ্লু বেশি। আমরা চেষ্টা করছি বিড়ালকে এই ভ্যাকসিন গুলো দেওয়ার। এটি চলবে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। আমি ভেটেনারি সার্জন হিসেবে দেখেছি এখানে অনেক বিড়াল ক্যাটফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আমরা বিড়াল মালিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিড়ালগুলোকে সুরক্ষার জন্যই এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করেছি। বিড়ালের বাচ্চার বয়স দুই মাস হলে এই ভ্যাকসিন দিতে হবে এবং পরের ডোজ ৪৫ দিন পরে এবং তারপর প্রতিবছরে একবার করে দিলেই হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন বলেন, এখন অনেকেই বাড়িতে বিড়াল পোষছেন। পোষা বিড়াল এখন অনেক পরিবারের অবিচ্ছেদ্দ অংশ হয়ে উঠেছে। ক্যাট ফ্লু একটি ভাইরাল ডিজিস। এই ভ্যাকসিন বিড়ালের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সংক্রামক রোগের বিস্তার কমায় এবং তাদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও দীর্ঘায়ু জীবন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে। এই ভাইরাসটি শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে। পাশাপাশি সর্দি, হাঁচি, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বরসহ বিভিন্ন উপস উপসর্গ দেখা দেয়। বিড়ালকে ক্যাটফ্লু ভ্যাকসিন প্রদানের ফলে অসুস্থতার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর সম্ভাবনাও হ্রাস করে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :