অবশেষে দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বস্তি ফিরল বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। স্কুলের সহকর্মীদের বেতন জোগাতে ছুটির দিনে পর্যটক ও যাত্রীবাহী নৌকা চালানো সেই আলোচিত প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের কষ্ট সার্থক হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণ (সরকারি) করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে, প্রিয় বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখার জন্য এই প্রধান শিক্ষককে আর হাল ধরতে হবে না নৌকার বৈঠার।
সোমবার (১৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম হবে ‘তিন্দু সরকারি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়’।
জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সোমবার থেকে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার ‘তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়’কে সরকারি ঘোষণা করা হলো। একই সাথে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরকারি বেতন-ভাতার আওতায় (আত্তীকরণ) আনা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের এই চাকরি অ-বদলিযোগ্য হবে।
এর আগে জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি সংসদে জানান, প্রধান শিক্ষকের এই আত্মত্যাগের খবরটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসলে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হন এবং অবিলম্বে স্কুলটি জাতীয়করণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই দ্রুততম সময়ে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত থানচির তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় তারা নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে পারত না। ফলে, শুরু থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া নিয়ে চরম সংকটে পড়ে বিদ্যালয়টি।
এই সংকট কাটাতে এক অভিনব ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। বিদ্যালয়ের ছুটির দিনগুলোতে তিনি থানচি–তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন শুরু করেন। নৌকা চালিয়ে তার যা আয় হতো, তার একটি বড় অংশ তিনি নিজের পকেটে না রেখে সহকর্মীদের বেতন হিসেবে বিলিয়ে দিতেন।
শুধু চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসেই নৌকা চালিয়ে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেন, যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকাই সহকর্মীদের হাতে বেতন হিসেবে তুলে দেন।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার আলো জ্বেলে রাখতে একজন প্রধান শিক্ষকের এমন নিঃস্বার্থ ও অনন্য উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। অবশেষে সরকারি স্বীকৃতির মাধ্যমে এই সংগ্রামী শিক্ষক এবং তার পুরো টিমের ত্যাগ ও নিষ্ঠার এক পরম মূল্যায়ন ঘটল।
এম
আপনার মতামত লিখুন :