বাবা-ছেলের বিবাদ থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচার

  • রাজশাহী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
বাবা-ছেলের বিবাদ থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচার

ছবি : প্রতিনিধি

রাজশাহী: সকালের ব্যস্ত সময়ে জমিতে কাজ করছিলেন বাবা-ছেলে। সামান্য একটি বিষয় নিয়ে শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় হাতাহাতিতে। তাঁদের ঝগড়া থামাতে এগিয়ে আসেন চাচা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চাচাকেই হতে হলো হাসুয়ার কোপের শিকার। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের দাঁদপুর বাগিচাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইদ্রিস আলী ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আবু বকর সিদ্দিকের ভাই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে জমিতে ধান ও পাট নিয়ে কাজ করছিলেন আবু বকর সিদ্দিক ও তাঁর ছেলে আলফাজ (৩৫)। এ সময় বাবার সামনে আলফাজ বিড়ি ধরালে তিনি ছেলেকে বকাঝকা করেন। বিষয়টি নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এ সময় স্থানীয় দুই ব্যক্তি আক্তার ও মেরাজ তাঁদের ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন। তাঁরা দুজনকে কাজ বন্ধ করে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পরিস্থিতি শান্তও ছিল। কিন্তু পরে আবারও বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।

এবার তাঁদের থামাতে এগিয়ে যান ইদ্রিস আলী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন আলফাজের হাতে থাকা হাসুয়ার আঘাতে তাঁর বাবা আবু বকর সিদ্দিক ও চাচা ইদ্রিস আলী গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইদ্রিস।

পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসক ইদ্রিস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আক্তার বলেন, “আমি তাঁদের ঝগড়া থামিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেছিলাম। পরে আবার মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস চাচা থামাতে এগিয়ে যান। তখনই হাসুয়ার আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে যান।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, আলফাজ গত রোববার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বাড়ি ফেরেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হাসুয়ার আঘাতে ইদ্রিস আলী নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পিএস

Link copied!