স্কুলছাত্রীকে জিম্মি করে দেহ ব্যবসা, বিএনপি নেতা অব্যাহতি ও গ্রেপ্তার ১

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
স্কুলছাত্রীকে জিম্মি করে দেহ ব্যবসা, বিএনপি নেতা অব্যাহতি ও গ্রেপ্তার ১

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করানোর এক ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে। চক্রটির খপ্পরে পড়ে এক শিক্ষার্থী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ সাউদপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল পলাতক রয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বকুলের স্ত্রী জাহানারা বেগম, মেয়ে লিমা এবং টেংগুরী গ্রামের স্মৃতি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ওই শিক্ষার্থীকে ফুসলিয়ে এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন বকুল। সেই ঘটনার ভিডিও ফোনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এরপর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার নির্যাতন করা হয়। গত বছর থেকে বকুলের সহযোগীরা মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে নিপীড়ন চালায়।

গত ১ আগস্ট চট্টগ্রামের বোনের বাড়িতে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কথা জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। পরে গত ১৮ আগস্ট চিকিৎসকের কাছে নিয়ে জানা যায় মেয়েটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে বিএনপির সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান জানান, কোনো ব্যক্তি অপকর্মের দায়ভার দল নেবে না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, একটি শক্তিশালী চক্র ওই এলাকায় শিক্ষার্থীদের প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে অসামাজিক কাজ এবং মাদকের কারবারে ব্যবহার করে আসছিল। স্থানীয়রা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবার দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

এসএইচ 

Link copied!