ফাইল ছবি
দেশের বাজারে আটা, ময়দা ও চিনির দাম আরও এক দফা বেড়েছে। সবজির দাম কিছুটা কমে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এলেও মাছ, মাংস ও ডিম বিক্রি হচ্ছে আগের চড়া দামেই।
গ্যাসসংকটের কারণে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চিনি, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের সরবরাহে টান পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়, যা তিন-চার সপ্তাহ আগেও ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ছিল। ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে খোলা আটা। মাসের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। একইভাবে খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অস্থিরতা বেড়েছে চিনির বাজারেও। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে এখন চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দর বিশ্লেষণেও এসব পণ্যের দাম বাড়ার তথ্য মিলেছে।
বাড্ডার মুদিদোকানি সাইফুল আলম জানান, আগে দুই কেজির আটার প্যাকেটের দাম ছিল ১২০ টাকা, যা এখন ১৩০ টাকা করা হয়েছে। দুই কেজির ময়দার প্যাকেট ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। সয়াবিন তেলের দাম নতুন করে না বাড়লেও বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাসেম জানান, গ্যাসের তীব্র সংকটে চিনিকলগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাজারে চিনির সরবরাহ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে পাইকারি দর বেড়ে গেছে।
তবে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে সবজির বাজারে। সরবরাহের ঘাটতি কমায় বেশিরভাগ সবজি এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি পটল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মানভেদে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও আলুর দাম; প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে আমিষের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। গত এক মাস ধরে ডজনপ্রতি ১৫০ টাকাতেই আটকে রয়েছে ডিমের দাম। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগী ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসএইচ