আশ্রয় আর আহারের আকুতি ৮৯ বছরের বৃদ্ধা ছুরুতি খাতুনের

  • চুয়াডাঙ্গা প্র‌তি‌নি‌ধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
আশ্রয় আর আহারের আকুতি ৮৯ বছরের বৃদ্ধা ছুরুতি খাতুনের

ছবি : প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা: চোখে ঝাপসা দৃষ্টি, আর শরীরে বয়সের ভার। শেষ বয়সে এসে কারও কাছে হাত পেতে চাওয়ার মতো শারীরিক শক্তিও আর অবশিষ্ট নেই। জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই আর দু’বেলা দু‘মুঠো আহারের নিশ্চয়তা চান ৮৯ বছর বয়সী বৃদ্ধা মোসাম্মৎ ছুরুতি খাতুন।

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা এই বৃদ্ধা প্রায় ২০ বছর আগে স্বামীকে হারান। চার মেয়ে ও এক ছেলের জননী ছুরুতির দিনকাল সন্তানদের নিয়ে একসময় ভালোই কাটছিল। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রায় আট বছর আগে খাদ্যনালীর সমস্যায় মারা যান তাকে দেখাশোনা করা এক মেয়ে। এর মাত্র তিন মাস পর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারান তার একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে সোহরাব।

​সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা এই বৃদ্ধার এখন নিজের বলতে কোনো জমিজমা কিংবা থাকার মতো একটি ঘরও নেই। বর্তমানে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কোনো রকমে দিন পার করছেন তিনি। দূর সম্পর্কের এক ভাই কখনো খাবার দিলে আহার জোটে, তা না হলে চরম অনাহারে দিন কাটাতে হয় তাকে।

​নিজের আকুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ছুরুতি খাতুন জানান, লোকলজ্জার ভয়ে কারও কাছে হাত পাততে পারেন না তিনি। অভাব ও অসহায়ত্বের কথা স্থানীয় অনেকের কাছে জানালেও সেভাবে সহায়তা পাননি। এখন আর বেশি কিছু চাওয়ার নেই—শুধু একটি ছোট ঘর আর বাকি জীবনটা শান্তিতে খেয়ে-পরে পার করার আকুল প্রার্থনা তার।

​জীবনের শেষ দিনগুলোতে এই অসহায় বৃদ্ধার মুখে একটু হাসি ফোটাতে সরকার, সমাজের বিত্তবান এবং মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পিএস

Link copied!