ছবি: প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কালপুরে পাগলা নদীর ওপর প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ সাত মাস ধরে বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। এতে সকাল ও সন্ধ্যায় সেতুর দুই পাশে প্রতিদিন মোট ছয় ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলছে। ভারী যানবাহনকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় সময় ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ১৭২ দশমিক ৩০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের ১৪ নভেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সেতুটি চালু হলে শিবগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় সুফল আসবে। শিবগঞ্জ থেকে চারটি ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে বর্তমানে শিবগঞ্জ থেকে মনাকষা পর্যন্ত সড়কটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যানবাহন বৃদ্ধির ফলে এই সড়কে প্রতি মিনিটে অন্তত ৪০টি মোটরসাইকেল ও অটো চলাচল করে। ফলে সড়কটি প্রশস্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে এলাকার বাসিন্দা মুকুল ইসলাম ও সোনার্দি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সেতুর জন্য অপেক্ষা করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়ে চলাচলে ভয় লাগে এবং ভারী যানবাহন ঘুরিয়ে নিতে হয়। দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে স্থানীয় দুর্ভোগ কমানোর জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সাত মাস আগে কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মান্নান এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, টিকটকারদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্য সঠিক নয়। মূলত আটটি পরিবারকে উচ্ছেদ ও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এবং বর্ষার কারণে মাঠপর্যায়ে কাজের গতি কমেছিল। সংযোগ সড়কের স্থানে উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হলেই তিনি আবার কাজ শুরু করবেন এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
সংযোগ সড়কের স্থানে বসবাসকারী কমেলা, বায়েজিদ, রাজ্জাক ও রুস্তম জানান, বহু বছর আগে জমি কিনে তারা সেখানে বসবাস করছেন এবং অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা তাদের নেই। সরকার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিলে তারা সরে যেতে রাজি আছেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ সংযোগ সড়ক এলাকায় গিয়ে আটটি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। ইউএনও মাজহারুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় চলছে। দ্রুতই নির্মাণকাজ স্বাভাবিক গতিতে শুরু হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ আশ্বাস দেন, খুব শিগগির সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
এসএইচ