ছবি: প্রতিনিধি
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নীলফামারীর ১২টি কলেজ ও দুটি আলিম মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে এই তথ্য জানা গেছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, নীলফামারী সদর উপজেলায় চারটি, ডিমলা উপজেলায় তিনটি, ডোমার উপজেলায় তিনটি, কিশোরগঞ্জে দুটি এবং সৈয়দপুরে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার আদর্শ কলেজে ৪০ জন, পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ জন, তরণীবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ জন, লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজে ১ জন; কিশোরগঞ্জের ভেড়ভেড়ি মাঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫১ জন, নয়ানখান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩ জন; ডিমলার জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১ জন, গয়াখড়িবাড়ি ওমেনস কলেজে ১ জন, আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ জন; ডোমারের জামিরবাড়ি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে ৫ জন, বাগডোকরা নিমুজখানা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩ জন, পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদ্রাসায় ১৫ জন এবং সৈয়দেরপুরের ছমির উদ্দিন আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ জন ও পোড়াহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।
এসব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেলের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। কয়েকজন অভিভাবক জানান, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির অভাবেই কলেজের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এ বিষয়ে কলেজগুলোর প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় তাঁদের পাওয়া যায়নি।
আদর্শ কলেজের প্রভাষক শরিউল ইসলাম শাহ্ বলেন, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে শিক্ষকরা প্রায় ২৬ বছর ধরে বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন। হতাশার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। এরপরও কেন কেউ পাস করতে পারল না, সেটাই ভাবার বিষয়। এর আগে কখনো এমন ফল হয়নি।
জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ূন কবির জানান, ১৪ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা কেন পাস করতে পারল না, সে বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডাকা হয়েছে। তাঁদের কাছে জবাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএইচ