ডিএসই কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি নিয়ে রুল, ৩০ দিনে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ডিএসই কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি নিয়ে রুল, ৩০ দিনে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ

ফাইল ছবি

ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির সাবেক ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আবদুল লতিফের চাকরিচ্যুতি নিয়ে করা রিটের শুনানি শেষে কারণ দর্শাতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) আবদুল লতিফের বিষয়টি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট পিটিশন নম্বর ১০২৯০/২০২৬-এর আদেশে সম্প্রতি হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

আদালতের নথি অনুযায়ী, আবদুল লতিফ ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে ডিএসই থেকে দেওয়া চাকরিচ্যুতির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই চিঠিতে ডিএসই/এইচআর/টার্মিনেশন/২০২৬/২৪২/৪০২২ নম্বর উল্লেখ করে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চিঠিতে তার পদ আর প্রয়োজন নেই-এমন কারণ দেখানো হয়েছিল।

রিটে বলা হয়, চাকরিচ্যুতির ওই সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে ওই termination letter-কে আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা এবং তাকে স্বপদে পুনর্বহালের পাশাপাশি চাকরির ধারাবাহিকতা, জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, ২৫ জুনের চাকরিচ্যুতির চিঠিটি কেন ‘collateral purpose’-এ, আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হবে না এবং কেন ওই চিঠির কোনো আইনগত কার্যকারিতা থাকবে না।

একই সঙ্গে কেন আবদুল লতিফকে তার পদে পুনর্বহাল করে চাকরির ধারাবাহিকতা ও জ্যেষ্ঠতা বহাল এবং সব আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। রুলটি দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

আদালতের আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার একটি হলো- রিটের চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বিএসইসিকে আবদুল লতিফের ২৮ জুন ২০২৬ তারিখের প্রতিনিধিত্ব (Annexure-L) নিষ্পত্তি করতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, বিএসইসি ওই প্রতিনিধিত্বের কপি বা আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবে।

অর্থাৎ, আদালত সরাসরি এই পর্যায়ে আবদুল লতিফকে চাকরিতে পুনর্বহালের চূড়ান্ত আদেশ দেননি। বরং তার চাকরিচ্যুতি বৈধ কি না এবং পুনর্বহালের দাবি গ্রহণযোগ্য কি না-সে বিষয়ে রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি বিএসইসিকে তার করা প্রতিনিধিত্ব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

রিটে বাংলাদেশকে প্রথম বিবাদী করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিবাদী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), যার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিত্ব দেখানো হয়েছে। তৃতীয় বিবাদী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি এবং চতুর্থ বিবাদী ডিএসইর জেনারেল ম্যানেজার, এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং অ্যাডভোকেট মিস ফওজিয়া আক্তার।

বিবাদীপক্ষের হয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান, ডিএজি মো. আখতার হোসাইন, ডিএজি মো. আবদুল ওয়াহাব, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মোহাম্মদ নুরুল আমিন, এএজি মো. গোলাম রায়িব, এএজি মো. ফুয়াদ হাসান এবং এএজি মিস তামান্না সুলতানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রিটকারীকেই নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশ সার্ভিসের জন্য দুই সেট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ সাধারণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রেজিস্টার্ড ডাকযোগেও পাঠানো হবে।

হাইকোর্টের আদেশের পর মামলাটির পরবর্তী ধাপে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে হবে। একই সময়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএসইসিকে আবদুল লতিফের ২৮ জুনের প্রতিনিধিত্ব ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

তবে এই আদেশের মাধ্যমে এখনো চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা বা আবদুল লতিফকে চূড়ান্তভাবে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। রুলের শুনানি ও পরবর্তী আদেশের মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

এএইচ/পিএস

Link copied!