এশিয়া পোস্টকে মাসুদ সাঈদীর আইনি নোটিশ, ১ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
এশিয়া পোস্টকে মাসুদ সাঈদীর আইনি নোটিশ, ১ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

ফাইল ছবি

অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্টে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ আল আমিন এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে সংবাদ দুটি প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে ১ হাজার কোটি টাকার মানহানি ও ক্ষতিপূরণের মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ ও ২০ মে এশিয়া পোস্টে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন এবং কুয়াকাটার প্রকল্প নিয়ে দুটি পৃথক প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। নোটিশে দাবি করা হয়েছে, এই সংবাদগুলো সম্পূর্ণ অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন, যা কোম্পানির এবং এর চেয়ারম্যানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

ব্যবসায়িক সততা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, ২০২৫ সাল থেকে কুয়াকাটায় শুরু হওয়া এই হোটেল প্রকল্পটি গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। অথচ এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারীদের ১৯০ কোটি টাকার মধ্যে ৯২ শতাংশ বা ১৭৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃত সত্য হলো, কোম্পানি এখনও এই পরিমাণ অর্থ সংগ্রহই করেনি এবং বিনিয়োগকারীদের জমা দেওয়া অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।

জমির পরিমাণ ও বেআইনিভাবে শেয়ার বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে নোটিশে আইনজীবী স্পষ্ট করেছেন যে, কোম্পানি জনসাধারণের কাছে কোনো শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দেয়নি। কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে জমি ও ভবন নির্মাণের প্রাথমিক অনুমোদন নিয়েই প্রকল্পের কাজ চলছে এবং সেখানে কোনো আইনি শর্ত লঙ্ঘন করা হয়নি। সংবাদে ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে প্রতারণার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট নাম বা প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মাসুদ সাঈদীর রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদার কথা উল্লেখ করে নোটিশে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের আগে প্রতিবেদককে তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। উল্টো ২১ মে পাঠানো প্রতিবাদলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও পূর্বের মিথ্যা তথ্যের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যা হলুদ সাংবাদিকতার শামিল।

ভিত্তিহীন এই সংবাদগুলোর কারণে ইস্তানবুল কর্তৃপক্ষের অন্তত ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ও সুনামগত ক্ষতি হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়। সাত দিনের মধ্যে যথাযথ গুরুত্বসহ সংবাদ ও ভিডিওগুলো প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়া না হলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এসএইচ 

Link copied!