এমপি নজরুলের ৪ আর প্রথম স্ত্রীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
এমপি নজরুলের ৪ আর প্রথম স্ত্রীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দ্বিতীয় স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী তরুণী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের (৭৫) চারদিন ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামের (৬৫) একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন৷ 

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

এর আগে নিহত তরুণীর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় নজরুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে দায়ের করা মামলায় অন্য দুই আসামি হলেন—নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম (৬৫) এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমান (৩৮)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ পেশায় একজন মুদি দোকানদার। তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) সঙ্গে গত জুন মাসে গাজী নজরুল ইসলামের (৭৫) ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম তার স্বামী ও প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদার সঙ্গে শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার ন্যাম ভবনের একটি বাসায় বসবাস করতেন।

এজাহারে বলা হয়, শ্যালক মো. ওবায়দুর রহমানের (৩৮) প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও সতীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে জানাতেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নজরুল ইসলাম বাদীকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে দেখতে পান, একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছেন। রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।

পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান তারা।

ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মরিয়মের বিছানা থেকে তার হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, ‘মরিয়ম যে কক্ষে থাকতেন, সেখান থেকে তার লেখা কিছু চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।’

এজাহারে চিরকুটের বরাত দিয়ে বলা হয়, সেখানে মরিয়ম লিখেছেন, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই...।' চিরকুটে তিনি আরও লেখেন, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম, তার সাথে জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে।’

চিরকুটের আরেক অংশে তরুণী লিখেছেন, ‘যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমি তো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি, তুমি জিতেছ; কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছ।’

মরিয়মের বাবা এজাহারে আরও অভিযোগ করেন, তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। পরে স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করে।

পিএস

Link copied!