দেশের বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে গ্রাহক ও বিক্রেতাদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
রোববার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ই-কমার্স খাতে প্রতারণা এবং এ বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।
এ সময় ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার তিনটি নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এগুলো হলো- জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের বিভিন্ন বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম করেছে। এর মধ্যে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং ও আলেশা মার্টসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে বিপুলসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও বিক্রেতাদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের পাওনা অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া তদারক করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
স্পিকারের অনুমতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করেন সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। তিনি জানতে চান, ইভ্যালি বা আলেশা মার্টের মতো প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষের আটকে থাকা অর্থ ফেরত দিতে সরকারের সরাসরি কী পরিকল্পনা রয়েছে।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স খাতে অতীতের অনিয়মের কারণে গ্রাহকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) চালুর ফলে বৈধ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনগত তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকছে। এর ফলে ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পরিচালনা ঠেকানো সহজ হবে।
এ ছাড়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জমা পড়া ৫৮ হাজারের বেশি অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
এম