সোনারগাঁও টেক্সটাইলের আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
সোনারগাঁও টেক্সটাইলের আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিল

ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইলের ব্যবসা কয়েক বছর ধরে খারাপ যাচ্ছে। কোম্পানিটি ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ৬ অর্থবছরের মধ্যে ৪ অর্থবছর লোকসান হয়েছে। বাকি ২ অর্থবছর সামান্য মুনাফা হয়েছ। এই কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে দেখানো ৫৫ কোটি টাকার মজুদ পণ্য ও ৬৮ কোটি টাকার স্থায়ী সম্পদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষক।

সোনারগাঁও টেক্সটাইলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে ৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মজুদ পণ্য ও ৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদ দেখিয়েছে। যা নিরীক্ষকের সরেজমিনে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনকি বিকল্প কোন উপায়েও যাচাই করা যায়নি।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ কোটি ৭ লাখ টাকার কাঁচামাল কিনেছে বলে আর্থিক হিসাবে তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাহিরে নগদ টাকায় কিনেছে বলে নিরীক্ষককে জানিয়েছে। যাতে প্রমাণের অভাবে ওই কাঁচামাল প্রকৃতপক্ষে কেনা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত নয় নিরীক্ষক।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবন্টিত লভ্যাংশ হস্তান্তর করেনি সোনারগাঁও টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ। এমনকি ওই লভ্যাংশ পৃথক হিসাবে জমা রাখেনি।

সোনারগাঁও টেক্সটাইলে ২০১৯ সালের ১৪ লাখ টাকা ও ২০২২ সালের ১ লাখ টাকার অবন্টিত লভ্যাংশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। যা ৩ বছরের বেশি সময় ধরে অপ্রদানকৃত অবস্থায় থাকার পরেও বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে স্থানান্তর করেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এমনকি ওই লভ্যাংশ প্রদানের মতো এ সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাবে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ নেই।

২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ি, ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) গঠন করা এবং তা কর্মীদের মধ্যে বিতরন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সোনারগাঁও টেক্সটাইলে ১০ লাখ টাকার এই ফান্ড থাকলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা বিতরন না করে কর্মীদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটির আর্থিক হিসাবে ২০২৫ সালের ৩০ জুন ডেফার্ড ট্যাক্স দায় হিসেবে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ওই ডেফার্ড ট্যাক্স গণনায় পূণ:মূল্যানজনিত সারপ্লাসকে বিবেচনায় নেয়নি। ফলে ডেফার্ড ট্যাক্স দায়ের হিসাবে ভুল তথ্য দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

এএইচ/পিএস

Link copied!