ফাইল ছবি
ঢাকা: চলমান ঋণের পিছিয়ে পড়া কিস্তি ছাড়ের তুলনায় এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নতুন ঋণ নিতে আগ্রহী সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সংকট মোকাবিলায় আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে মোট ৩০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়ে মৌখিক আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে সরকার। ঋণের শর্ত নির্ধারণে এখন দরকষাকষি চলছে। উভয় পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ প্রস্তাব দেওয়া হবে।
ওয়াশিংটন থেকে ফিরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এসব বিষয়ে অবহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মহামুদ চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশংটন গিয়েছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার আইএমএফের কাছে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০০ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ চেয়েছে। উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য আইএমএফ ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংক দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত জরুরি সহায়তার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় তুলনামূলক সহজ শর্তে এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারসহ কয়েকটি শর্ত পূরণে পিছিয়ে থাকার কারণে আইএমএফের বর্তমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত পর্যালোচনা মিশন এপ্রিলের পরিবর্তে জুলাইয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ফলে জুনের আগেই দুই কিস্তিতে ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
জানা গেছে, ওয়াশিংটনে আলোচনায় আইএমএফের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ছাড়া সব ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার, টার্নওভার কর আরোপ, করছাড় বাতিল এবং ভ্যাটের অভিন্ন হার চালু করাসহ বিভিন্ন শর্ত বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান আর্থিক অবস্থায় সরকারের কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে আইএমএফ। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারও শর্তের অন্তর্ভুক্ত।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন বাড়ায় সরকার অন্যান্য দাতা সংস্থার কাছেও অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছে। আইএমএফের অর্থ ছাড় না হলে অন্য দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে দরকষাকষির মাধ্যমে শর্ত যতটুকু সম্ভব শিথিল করে নতুন ঋণ নিতে চায় সরকার। এর অংশ জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করে ‘রাজস্বনীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, তা নতুন সরকার কার্যকর করেনি। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে একক ভ্যাট হার বাস্তবায়ন, করছাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং অটোমেশন কার্যক্রম জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন সহায়তার অগ্রগতি এবং চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গত রোববার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচিটি অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল। ওই চুক্তিতে থাকা অনেক শর্ত বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
২০২২ সালে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে। পরে ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকার ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে এবং বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার।
এসআই
আপনার মতামত লিখুন :