রেমিট্যান্সের বিপরীতে ভ্যাট ফাঁকি প্রাইম ব্যাংকের, গুণতে হচ্ছে সুদ ও জরিমানা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
রেমিট্যান্সের বিপরীতে ভ্যাট ফাঁকি প্রাইম ব্যাংকের, গুণতে হচ্ছে সুদ ও জরিমানা

ফাইল ছবি

ঢাকা: প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ওপর কোনো কর নেই। তবে রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার বিপরীতে ব্যাংককে নির্দিষ্ট হারে উৎসে ভ্যাট দিতে হয়। বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংক এই ভ্যাট বাবদ গত পাঁচ বছরে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮ হাজার টাকা ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। 

ব্যাংকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ব্যাংকটি ওই ভ্যাট পরিশোধের কথা জানিয়েছে। তবে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ায় এখন ব্যাংকটিকে বড় অঙ্কের সুদ ও জরিমানা গুনতে হবে। 

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংস্থাটি জানায়, প্রাইম ব্যাংক শুধু রেমিট্যান্সেই নয়, নিজেদের কেনাকাটা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

সূত্রমতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে রেমিট্যান্সের বিপরীতে উৎসে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে প্রাইম ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে সিআইসি। তদন্তে প্রাইম ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মেলে। এরপর ভ্যাট আদায়ে গত ২৮ আগস্ট এলটিইউতে প্রতিবেদন পাঠায় সিআইসি। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এলটিইউ ব্যাংকটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে।

এনবিআরের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে দুই দফায় এই ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা অপরিশোধিত ছিল।

গত ১৬ নভেম্বর শুনানিতে অংশ নিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮ হাজার টাকার মধ্যে একটি অংশ ২০২৩ সালের মার্চ মাসের ভ্যাট রিটার্নে দেখানো হয়েছে। বাকি ২ কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বকেয়া ভ্যাট পরিশোধ করার মাধ্যমে ব্যাংকটি পরোক্ষভাবে ফাঁকির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। ভ্যাট আইন অনুযায়ী, ফাঁকি দেওয়া অর্থের ওপর এখন নির্দিষ্ট হারে সুদ ও জরিমানা আরোপ করা হবে, যার জন্য শিগগির নোটিশ জারি করবে এলটিইউ।

এদিকে, কেনাকাটা ও বিভিন্ন ব্যয়ের বিপরীতেও ব্যাংকটির ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়েছে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, এ খাতে ব্যাংকটি আরও ২০ লাখ ৭০ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। এ বিষয়েও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে এলটিইউ।

এএইচ/পিএস

Link copied!