ফাইল ছবি
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রকে ঘিরে ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সংঘবদ্ধ নকল বাণিজ্যের চিত্র আবার সামনে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রশ্নের উত্তর বেচাকেনা, মোবাইল ফোনে সরাসরি সমাধান পাঠানো এবং টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত চক্র সক্রিয় ছিল।
উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্র সচিব, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কক্ষ পরিদর্শক ও বাইরের নকল সরবরাহকারীদের সমন্বয়ে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হতো। নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে আলাদা কক্ষে বসিয়ে সেখানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করা হতো। ২০২৩ সালের ৯ মে গণিত পরীক্ষার দিন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে স্মার্টফোন উদ্ধার করে তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে প্রশ্নের সমাধান পাওয়ার কথা স্বীকার করে।
প্রতিবেদনে কেন্দ্র সচিবের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণের কথাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের পর তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কেন্দ্রটি বাতিল এবং বিকল্প কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি স্পষ্ট নয়।
তিন বছর পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসায় নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করে কেন সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ওই ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষায় যেকোনো অনিয়ম দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :