ফাইল ছবি
শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার চেয়ে দলীয় রাজনীতিতেই বেশি ডুবে থাকতেন একশ্রেণীর শিক্ষক। প্রভাব পড়ত সার্বিক ফলাফলে। এবার সেই চেনা ছবি বদলাতে যাচ্ছে। রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়া আর শিক্ষার মান বাড়াতে এসেছে ১৫ দফার কঠোর অনুশাসন।
সরকারের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা প্রশাসন। তৈরি হচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কঠোর আচরণবিধি। রাজনীতি থেকে দূরে রেখে শিক্ষকদের মূল কাজে ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
স্কুলের শ্রেণিকক্ষগুলোতে এখন থেকে চলবে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও রুটিন। কোনো শিক্ষক ক্লাসে ফাঁকি দিচ্ছেন কি না, তা ধরা পড়বে সরাসরি ভিডিও কলে। সিসি ক্যামেরা আর বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে হবে ডিজিটাল মনিটরিং। প্রধান শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর রাখা হচ্ছে কেন্দ্রীয় নজরদারিতে।
ঝরে পড়া রোধেও নামছে নতুন কৌশল। শুধু বইয়ের পাতায় বন্দি না রেখে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা আর বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ে শিক্ষক সংকট মেটাতে আসছে বিশেষ প্রশিক্ষণ। ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে চালু হচ্ছে বিশেষ পদক ও পুরস্কার।
সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যেন সেরা শিক্ষকদের ক্লাস পেতে পারে, সে জন্য চালু হতে যাচ্ছে একটি আলাদা জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের কাজও শুরু হচ্ছে দ্রুত।
শিক্ষা বোর্ডের কর্তারা বলছেন, বিগত দিনে রাজনীতিতে অতিরিক্ত মন দেওয়ায় পড়ার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। জবাবদিহিতা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরা। নতুন সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে কার্যকর হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এখন অপেক্ষা কেবল বাস্তবায়নের।
এসএইচ